শুল্কবিবাদে বিরতির সুযোগে বেড়েছে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান শুল্কবিবাদে বিরতির সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশ দুটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান শুল্কবিবাদে বিরতির সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশ দুটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ সুবাদে গত মাসে চীনের রফতানি বাজার কিছুটা গতি ফিরে পেয়েছে। অন্যদিকে আমদানিও পতনের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।

বর্তমানে একটি টেকসই বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি। চুক্তি হবে, নাকি আবারো শতভাগের বেশি শুল্ক আরোপের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়বে, সে অনিশ্চয়তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন চীনা ব্যবসায়ীরা।

গতকাল চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত জুনে দেশটির রফতানি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এ হার অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত দশমিক ৫ শতাংশ ও মে মাসের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা মে মাসে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সংকোচনের বিপরীতে ইতিবাচক মোড়। যদিও বিশ্লেষকরা ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছিলেন।

গত মাসে চীন ১১ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে, যা মে মাসের ১০ হাজার ৩২২ কোটি ডলারের চেয়ে অনেক বেশি।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চিম লি জানান, ‘চীন থেকে ফ্রন্টলোডিং বা আগেভাগে পণ্য পাঠিয়ে রাখার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমছে। তবে আগস্টের শুল্ক বিরতির সময়সীমা সামনে রেখে এ চাপ এখনো কিছুটা অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য শিথিলতা এসেছে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য পরিস্থিতি এখন প্রায় এপ্রিলের মাঝামাঝি অবস্থানে ফিরে গেছে।

মে মাসে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনার পর জুনে বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা দেয়। বাণিজ্য চুক্তি অনুসারে, জুনে চীনের দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানি আগের মাসের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রবাহে বাধা কমানোর লক্ষ্যে সমঝোতা হয়েছে। সেটি কার্যকর হতে শুরু করেছে বলেই এ প্রবৃদ্ধি।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে বজায় থাকবে এত সহজে বলা যায় না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ শুরু করেছেন, ফলে চীন নতুন ঝুঁকিতে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক চীনা কোম্পানি পণ্য রফতানির জন্য ভিয়েতনামের মতো যেসব তৃতীয় দেশকে ব্যবহার করে, ওই সব দেশের ওপর মার্কিন চাপ বাড়লে চীন পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ভিয়েতনামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা চীনা পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। এছাড়া ট্রাম্প ব্রিকস সদস্য দেশগুলো থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন। চীন এ জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, তাই এ পদক্ষেপ তাদের জন্য আরো একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ইইউর অভিযোগ, চীন অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ববাজারকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছে।

তবে বেইজিংয়ের হাতে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সময় আছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে শুল্কযুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

আরও